জুয়া ও জুয়ারী কথন
জুয়া খেলার প্রভাব
কেন আমি এটা বন্ধ করতে পারছি না?
১. এটা কি করে সম্ভব ? আমি বিশ্বাস করি না যে আমিই শুধু সমস্যায় পড়ব।
২. আমি যদি এটা বন্ধ করি তাহলে সবার সামনে আমি ছোট হয়ে যাবো। আমার ধার করা টাকা পরিশোধের আর কোন উপায় নেই।
৩. আমার যদি টাকা থাকে তো এখানে ইনভেষ্ট করবো। একটা বড় দান মারতে পারলে সব টাকা উঠে আসবে।
৪. আমি কেবল মাত্র হেরেছি , আমার টাকাটা উঠাতে হবে।
৫. এই খেলা তো আমি একা খেলি না । আরো অনেকে তো খেলে।
৬. আমি কখনো মনে করিনা যে এটা খারাপ।
৭. আমি আমার সমস্যা একাই মেটাতে চাই। টাকাটা তোলার পর আর না খেললে হল।
৮. আজ হেরেছি তো কি হয়েছে। কাল নিশ্চয় জিতবো।
৯. আজ খেলে আর খেলবো না।
এই বাক্য গুলো কি খুব পরিচিত? জুয়ারীরা এই সকল কথায় বলে থাকে আর তারা তাদের নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য ভুলে জুয়া নিয়ে পড়ে থাকে। তারা যে এর পিছনে কত টাকা ও সময় ঢেলেছে তার কোন সীমা পরিসীমা নেই। তারা জানে তাদের জীবনে অনেক সমস্যা আছে তারপর ও তারা জুয়ার নেশায় পড়ে থাকে।
অনেক মানুষ আছে যাদের শরীরের রক্তের মত তাদের জুয়ার নেশায় পেয়ে বসেছে। তারা জানে তারা তাদের কাছের মানুষের জন্য অনেক সমস্যার জাল তৈরি করে ফেলছে। তারা কিন্তু এ ব্যাপারটা নিয়ে খুশি নয় এবং তার উপর রেগেও আছে। কিন্তু জুয়ার তাড়নার কাছে এসব কিছুই না। সে এসবের কোন গুরুত্ব না দিয়ে টাকা আর ইমোশন সব জুয়ার বোর্ডে ঢেলে দেয়। হারা টাকা যে তুলে আনতে হবে এ ধারনা তার মাথার ভিতরে সব সময় ঘুরতে থাকে। কিছু মানুষ তো এটা বিশ্বাস করে যে ঈশ্বর তার হারানো টাকা যখন তখন জুয়ার থেকেই ফিরিয়ে দেবে। এক বার জিতলে সে হয়তো বার বার জিতবে। তখন তার কাছে জুয়া ছেড়ে উঠে আসাটাই লজ্জার হয়ে দাড়ায়।
আবার কিছু লোক আছে যা খেলা বাদ দিতে চায় কিন্তু পারে না। তারা এর ভিতরে ভালবাসা খুজে পায়। আর এটাই তাদের আরো ভিতরে টানতে থাকে, এবং ক্রমে তারা ঋণের দায়ে জড়িয়ে যায়। তারা সব সময় চিন্তা করে বড় দান মারবে। আর তারা যদি একবার জেতে তাহলে এই জেতাই তাকে পাহাড় সম আত্মবিশ্বাস যোগায়। তারা যদি তখন আরো না খেলে তা তখন আত্মসম্মানের বলি হল মনে করে। তারাই জুয়ার সব রকমের সমস্যার সম্মুখীন হয়।
কেউ যদি জুয়া নেশার সর্ব্বোচ্চ পর্যায়ে চলে যায়, তাহলে অনেক সময় তারা এটা ত্যাগ করার চিন্তা করে। কিন্তু বেশির ভাগ সময় সেটা সম্ভব হয় না। তাই যখন ছাড়ার সুবুদ্ধি আবার উদয় হবে তখন দেরি না করে কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
জুয়ার রিস্ক আর রিওয়ার্ড
বেশির ভাগ মানুষের কাছে এই অনুুভূতিটা মিক্সড। একই সময়ে এটাও মনে থাকে যে এটা করা উচিত নয়। মিক্সড ফিলিংস গুলো অনেক সময়ই বিভ্রান্তিকর।
যেমন,
জুয়ারীদের কাছে জুয়ার রিওয়ার্ড গুলো দেখুন ---------
১. জুয়ায় অন্যরকম থ্রিল কাজ করে।
২. একটি বড় দান আর তাতেই সব সমস্যার সমাধান।
৩. জুয়া কোটিপতি হওয়া সব থেকে সহজ রাস্তা।
৪. জিততে পারলে পরিবার , বন্ধুবান্ধব সবাইকে খাওয়ানো যায়।
৫. “ আমার কাছে একটি সহজ রাস্তা আছে যার দ্বারা বহুবার আমি জিতেছি।”
৬. “যখন আমি জিতি তখন খুব তাড়াতাড়ি টাকা আসে।”
৭. “জুয়া আমার সকল ব্যাথা থেকে দূরে রাখে।”
৮. “জুয়া আমার জীবনে সব। যখন জুয়া আছে তখন আমি ঠিক আছি।”
৯. সব বন্ধুরা জুয়া খেলে।
এই তো গেল রিওয়ার্ড। এবার জুয়ার রিস্ক দেখুন------------
১. “আমার সঙ্গী সব সময় চলে যাবার ভয় দেখায়।”
২. “আমার জুয়া নিয়ে সব সময় ঝগড়া লেগেই থাকে।”
৩. “আমি সব সময় পালাতে থাকি আর আমার হারার কথাগুলো লুকাই।”
৪. মান সম্মান দিন দিন কমে যাচ্ছে।
৫. দেনাদাররা সবসময় পিছনে লেগে আছে, কিন্তু হাতে টাকা নেই।
৬. স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে যায়।
৭. চাকরি হারানোর ভয়।
৮. কাছের অনেক মানুষের নিকট দেনা, মুখ দেখাতে লজ্জা করে।
৯. নিজেকে সব থেকে আলাদা লাগে।
পরিবারের উপর প্রভাব-
জুয়ার প্রভাব যে পরিবারের উপর কিভাবে পড়ে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যেমন----
আর্থিক সমস্যা ঃ
যখন পরিবারের জমানো টাকা, বাড়ি, ব্যবসা শেষ হয় তখন তা ভয়াবহ রূপ নেয়। পুরো পরিবারই জীবনের অনিশ্চয়তা ভোগ করে।
মানসিকতার পরিবর্তন ও বিচ্ছিন্ন থাকা ঃ
জুয়ার কারনে পরিবারের সকলের যে মানসিকতার পরিবর্তন হয় তা সাধারনত দীর্ঘ মেয়াদী হয়ে থাকে। জুয়ায় হেরে বাড়ি ফিরলে মনমেজাজ গরম থাকে যার কারনে পরিবারের লোকেদের গায়ে হাত তুলতে দ্বিধা করে না। এর কারনে সকলে তার থেকে দূরে থাকে। এভাবে বিচ্ছিন্নতার সৃষ্টি হয়। এছাড়া পরিবারের লোকেরা বাইরে লোকলজ্জার ভয়ে সবার থেকে দূরে সরে থাকে।
সংসারে অশান্তি ঃ
অনেক সময় জুয়ার কারনে পুলিশ বাড়ি আসে । যা পরিবারের জন্য অশাšির কারন হয়ে দাড়ায়। পুলিশ বাড়ির লোকের সাথে অনেক সময় বিনা কারনে ঝামেলা করে। এতে শুধু পুলিশের ভয়ে তাদের নিজেদের হাসিকান্না ভুলে তটস্থ থাকতে হয়।
শিশুদের উপর প্রভাব ঃ
যখন সন্তানেরা দেখে বাবা মা এর নিকট থেকে তারা তাদের নিজেদের নায্য টুকু পাচ্ছে না তখন তাদের মানসিকতা পরিবর্তন হয়, তারা অনেক সময় রেগে থাকে বা চুপ করে থাকে। তারা ডিপ্রেশনে ভোগে। তখন তারা মনে করে যে, তারা যদি শান্ত হয়ে ভাল হয়ে থাকে তাহলে হয়তো সকল সমস্যা মিটে যাবে। বাচ্চারা ও ভাবে যে তাদেরও বাবা মা এর পাশে দাড়ানো উচিত। অনেক সময় তারা বাবা মাকে বিশ্বাস করা ভলে যায় কারনে ওই মুহুর্তে বাচ্চাদের নিকট করা অনেক প্রমিসই রাখা হয় না। কিছু কিছু বাচ্চা অতিরিক্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে তাদের প্রতি বাবা মায়ের নজর ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করে।
উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা ঃ
কিছু মানুষ আছে যারা জুয়ার ফলে প্রচন্ড উদ্বেগ ও উৎকন্ঠায় থাকে। আর এটা তাদের ঘুম, চিন্তা ধারা এমন কি তাদের সহজ সমস্যা সমাধানে কৌশল পর্যন্ত ভুলে যায়।
সাধারনত জুয়ারীদের ভিতরে নিচের সমস্যাগুলো দেখা যায়-
১. সাধারন কাজকর্মে মনযোগ হারিয়ে ফেলে।
২. সব সময় মন খারাপ থাকে।
৩. ঘুম কমে যায় অথবা ঘুমের মাত্রা অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যায়।
৪. ক্ষুধা কমে যায়। ওজন কমে যায়। অনেক সময় ওজন অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়।
৫. সবার সহযোগিতা, সহানুভ’তি , আত্মীয়তা কমে আসছে মনে হয়।
৬. যেকোন জিনিস মনে করা খুব কষ্টের হয়। চিন্তা শক্তি কমে আসে।
৭. নিজেকে উত্তরোত্তর দোষী মনে হয়। এবং এ চিন্তা থেকে দূরে আসতে পারে না।
৮. শারিরিক সম্পর্কের দিকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।
৯. অতিরিক্ত রেগে যায়।
১০. শারিরিক ভাবে দূর্বল মনে হয়।
১১. অতিরিক্ত আসক্তরা আত্মহত্যার কথা চিন্তা করে।
কারো ভিতরে যদি এসকল লক্ষন দেখা যায় তাহলে তার সাথে দ্রুত কথা বলা উচিত, তার এর কুফল সম্পর্কে বোঝানো উচিত। অতিরিক্ত আসক্তদের জন্য কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করা দরকার। এ ধরনের কাউন্সিলিং ঔষুধ অনান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে।
মৃত্যুর হুমকি ঃ
যারা জুয়ারী তারা ও তাদের পরিবারের ভিতরে মৃত্যুর হুমকি সব থেকে বেশি হয়ে থাকে। যারা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় তাদের ভিতরে সব থেকে বেশি কাজ করে ডিপ্রেশন অথবা যারা প্রচুর নেশা করে। পরিবারে যারা তাদের আত্মহত্যার হুমকি দেয় তারাই এক্ষেত্রে বেশির ভাগ সময় এ পথ বেছে নেয়। তুমি যদি জুয়ারী হও আর শেষ পথ হিসাবে আত্মহত্যাকে বেছে নাও তাহলে একটু অপেক্ষা করো। নিজের সমস্যা নিজের ভিতরে না রেখে কথা শেয়ার করো। নিচের কথাগুলো একটু খেয়াল করে পড়ো -----------
কেন তুমি আত্মহত্যা করতে চাচ্ছো ?
১. এজীবনের কোন মানে নেই এ কথা মন থেকে দূরে সরাও।
২. তোমার পরিবার পরিজন তাতে কতটা কষ্ট পাবে ভেবে দেখ?
৩. পারিবারিক ডাক্তার থাকলে তাকে জানাও।
৪. কোন নেশা করো না, যাতে এই পরিস্থিতি আরো খারাপ না হয়।
৫. যাকে বিশ্বাস করো, শ্রদ্ধা করো এমন কারো সাথে কথা বলো।
৬. এই +৮৮ ০১৭৭ ১৫২ ৮০৮৬ নাম্বারটিতে কল করো। এরা জুয়া আসক্তির চিকিৎসা করে।
৭. যে করেই হোক জীবন অমূল্য সম্পদ তা বোঝার চেষ্টা করো।
পরিশেষে এটুকুই বলতে পারি যে, জুয়া আমাদের স্বাভাবিক জীবনের অভিশাপ। তাই এর থেকে যতটা দূরে থাকা যায় তাই ভালো। ঠাট্টার ছলেও এর চেষ্টা করবেন না। ফলাফল ভয়াবহ হতে সময় নেবে না। তাই নিজে সচেতন থাকুন, অপরকে সচেতন রাখুন।
তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট
কেন আমি এটা বন্ধ করতে পারছি না?
১. এটা কি করে সম্ভব ? আমি বিশ্বাস করি না যে আমিই শুধু সমস্যায় পড়ব।
২. আমি যদি এটা বন্ধ করি তাহলে সবার সামনে আমি ছোট হয়ে যাবো। আমার ধার করা টাকা পরিশোধের আর কোন উপায় নেই।
৩. আমার যদি টাকা থাকে তো এখানে ইনভেষ্ট করবো। একটা বড় দান মারতে পারলে সব টাকা উঠে আসবে।
৪. আমি কেবল মাত্র হেরেছি , আমার টাকাটা উঠাতে হবে।
৫. এই খেলা তো আমি একা খেলি না । আরো অনেকে তো খেলে।
৬. আমি কখনো মনে করিনা যে এটা খারাপ।
৭. আমি আমার সমস্যা একাই মেটাতে চাই। টাকাটা তোলার পর আর না খেললে হল।
৮. আজ হেরেছি তো কি হয়েছে। কাল নিশ্চয় জিতবো।
৯. আজ খেলে আর খেলবো না।
এই বাক্য গুলো কি খুব পরিচিত? জুয়ারীরা এই সকল কথায় বলে থাকে আর তারা তাদের নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য ভুলে জুয়া নিয়ে পড়ে থাকে। তারা যে এর পিছনে কত টাকা ও সময় ঢেলেছে তার কোন সীমা পরিসীমা নেই। তারা জানে তাদের জীবনে অনেক সমস্যা আছে তারপর ও তারা জুয়ার নেশায় পড়ে থাকে।
অনেক মানুষ আছে যাদের শরীরের রক্তের মত তাদের জুয়ার নেশায় পেয়ে বসেছে। তারা জানে তারা তাদের কাছের মানুষের জন্য অনেক সমস্যার জাল তৈরি করে ফেলছে। তারা কিন্তু এ ব্যাপারটা নিয়ে খুশি নয় এবং তার উপর রেগেও আছে। কিন্তু জুয়ার তাড়নার কাছে এসব কিছুই না। সে এসবের কোন গুরুত্ব না দিয়ে টাকা আর ইমোশন সব জুয়ার বোর্ডে ঢেলে দেয়। হারা টাকা যে তুলে আনতে হবে এ ধারনা তার মাথার ভিতরে সব সময় ঘুরতে থাকে। কিছু মানুষ তো এটা বিশ্বাস করে যে ঈশ্বর তার হারানো টাকা যখন তখন জুয়ার থেকেই ফিরিয়ে দেবে। এক বার জিতলে সে হয়তো বার বার জিতবে। তখন তার কাছে জুয়া ছেড়ে উঠে আসাটাই লজ্জার হয়ে দাড়ায়।
আবার কিছু লোক আছে যা খেলা বাদ দিতে চায় কিন্তু পারে না। তারা এর ভিতরে ভালবাসা খুজে পায়। আর এটাই তাদের আরো ভিতরে টানতে থাকে, এবং ক্রমে তারা ঋণের দায়ে জড়িয়ে যায়। তারা সব সময় চিন্তা করে বড় দান মারবে। আর তারা যদি একবার জেতে তাহলে এই জেতাই তাকে পাহাড় সম আত্মবিশ্বাস যোগায়। তারা যদি তখন আরো না খেলে তা তখন আত্মসম্মানের বলি হল মনে করে। তারাই জুয়ার সব রকমের সমস্যার সম্মুখীন হয়।
কেউ যদি জুয়া নেশার সর্ব্বোচ্চ পর্যায়ে চলে যায়, তাহলে অনেক সময় তারা এটা ত্যাগ করার চিন্তা করে। কিন্তু বেশির ভাগ সময় সেটা সম্ভব হয় না। তাই যখন ছাড়ার সুবুদ্ধি আবার উদয় হবে তখন দেরি না করে কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
জুয়ার রিস্ক আর রিওয়ার্ড
বেশির ভাগ মানুষের কাছে এই অনুুভূতিটা মিক্সড। একই সময়ে এটাও মনে থাকে যে এটা করা উচিত নয়। মিক্সড ফিলিংস গুলো অনেক সময়ই বিভ্রান্তিকর।
যেমন,
জুয়ারীদের কাছে জুয়ার রিওয়ার্ড গুলো দেখুন ---------
১. জুয়ায় অন্যরকম থ্রিল কাজ করে।
২. একটি বড় দান আর তাতেই সব সমস্যার সমাধান।
৩. জুয়া কোটিপতি হওয়া সব থেকে সহজ রাস্তা।
৪. জিততে পারলে পরিবার , বন্ধুবান্ধব সবাইকে খাওয়ানো যায়।
৫. “ আমার কাছে একটি সহজ রাস্তা আছে যার দ্বারা বহুবার আমি জিতেছি।”
৬. “যখন আমি জিতি তখন খুব তাড়াতাড়ি টাকা আসে।”
৭. “জুয়া আমার সকল ব্যাথা থেকে দূরে রাখে।”
৮. “জুয়া আমার জীবনে সব। যখন জুয়া আছে তখন আমি ঠিক আছি।”
৯. সব বন্ধুরা জুয়া খেলে।
এই তো গেল রিওয়ার্ড। এবার জুয়ার রিস্ক দেখুন------------
১. “আমার সঙ্গী সব সময় চলে যাবার ভয় দেখায়।”
২. “আমার জুয়া নিয়ে সব সময় ঝগড়া লেগেই থাকে।”
৩. “আমি সব সময় পালাতে থাকি আর আমার হারার কথাগুলো লুকাই।”
৪. মান সম্মান দিন দিন কমে যাচ্ছে।
৫. দেনাদাররা সবসময় পিছনে লেগে আছে, কিন্তু হাতে টাকা নেই।
৬. স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে যায়।
৭. চাকরি হারানোর ভয়।
৮. কাছের অনেক মানুষের নিকট দেনা, মুখ দেখাতে লজ্জা করে।
৯. নিজেকে সব থেকে আলাদা লাগে।
পরিবারের উপর প্রভাব-
জুয়ার প্রভাব যে পরিবারের উপর কিভাবে পড়ে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যেমন----
আর্থিক সমস্যা ঃ
যখন পরিবারের জমানো টাকা, বাড়ি, ব্যবসা শেষ হয় তখন তা ভয়াবহ রূপ নেয়। পুরো পরিবারই জীবনের অনিশ্চয়তা ভোগ করে।
মানসিকতার পরিবর্তন ও বিচ্ছিন্ন থাকা ঃ
জুয়ার কারনে পরিবারের সকলের যে মানসিকতার পরিবর্তন হয় তা সাধারনত দীর্ঘ মেয়াদী হয়ে থাকে। জুয়ায় হেরে বাড়ি ফিরলে মনমেজাজ গরম থাকে যার কারনে পরিবারের লোকেদের গায়ে হাত তুলতে দ্বিধা করে না। এর কারনে সকলে তার থেকে দূরে থাকে। এভাবে বিচ্ছিন্নতার সৃষ্টি হয়। এছাড়া পরিবারের লোকেরা বাইরে লোকলজ্জার ভয়ে সবার থেকে দূরে সরে থাকে।
সংসারে অশান্তি ঃ
অনেক সময় জুয়ার কারনে পুলিশ বাড়ি আসে । যা পরিবারের জন্য অশাšির কারন হয়ে দাড়ায়। পুলিশ বাড়ির লোকের সাথে অনেক সময় বিনা কারনে ঝামেলা করে। এতে শুধু পুলিশের ভয়ে তাদের নিজেদের হাসিকান্না ভুলে তটস্থ থাকতে হয়।
শিশুদের উপর প্রভাব ঃ
যখন সন্তানেরা দেখে বাবা মা এর নিকট থেকে তারা তাদের নিজেদের নায্য টুকু পাচ্ছে না তখন তাদের মানসিকতা পরিবর্তন হয়, তারা অনেক সময় রেগে থাকে বা চুপ করে থাকে। তারা ডিপ্রেশনে ভোগে। তখন তারা মনে করে যে, তারা যদি শান্ত হয়ে ভাল হয়ে থাকে তাহলে হয়তো সকল সমস্যা মিটে যাবে। বাচ্চারা ও ভাবে যে তাদেরও বাবা মা এর পাশে দাড়ানো উচিত। অনেক সময় তারা বাবা মাকে বিশ্বাস করা ভলে যায় কারনে ওই মুহুর্তে বাচ্চাদের নিকট করা অনেক প্রমিসই রাখা হয় না। কিছু কিছু বাচ্চা অতিরিক্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে তাদের প্রতি বাবা মায়ের নজর ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করে।
উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা ঃ
কিছু মানুষ আছে যারা জুয়ার ফলে প্রচন্ড উদ্বেগ ও উৎকন্ঠায় থাকে। আর এটা তাদের ঘুম, চিন্তা ধারা এমন কি তাদের সহজ সমস্যা সমাধানে কৌশল পর্যন্ত ভুলে যায়।
সাধারনত জুয়ারীদের ভিতরে নিচের সমস্যাগুলো দেখা যায়-
১. সাধারন কাজকর্মে মনযোগ হারিয়ে ফেলে।
২. সব সময় মন খারাপ থাকে।
৩. ঘুম কমে যায় অথবা ঘুমের মাত্রা অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যায়।
৪. ক্ষুধা কমে যায়। ওজন কমে যায়। অনেক সময় ওজন অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়।
৫. সবার সহযোগিতা, সহানুভ’তি , আত্মীয়তা কমে আসছে মনে হয়।
৬. যেকোন জিনিস মনে করা খুব কষ্টের হয়। চিন্তা শক্তি কমে আসে।
৭. নিজেকে উত্তরোত্তর দোষী মনে হয়। এবং এ চিন্তা থেকে দূরে আসতে পারে না।
৮. শারিরিক সম্পর্কের দিকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।
৯. অতিরিক্ত রেগে যায়।
১০. শারিরিক ভাবে দূর্বল মনে হয়।
১১. অতিরিক্ত আসক্তরা আত্মহত্যার কথা চিন্তা করে।
কারো ভিতরে যদি এসকল লক্ষন দেখা যায় তাহলে তার সাথে দ্রুত কথা বলা উচিত, তার এর কুফল সম্পর্কে বোঝানো উচিত। অতিরিক্ত আসক্তদের জন্য কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করা দরকার। এ ধরনের কাউন্সিলিং ঔষুধ অনান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে।
মৃত্যুর হুমকি ঃ
যারা জুয়ারী তারা ও তাদের পরিবারের ভিতরে মৃত্যুর হুমকি সব থেকে বেশি হয়ে থাকে। যারা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় তাদের ভিতরে সব থেকে বেশি কাজ করে ডিপ্রেশন অথবা যারা প্রচুর নেশা করে। পরিবারে যারা তাদের আত্মহত্যার হুমকি দেয় তারাই এক্ষেত্রে বেশির ভাগ সময় এ পথ বেছে নেয়। তুমি যদি জুয়ারী হও আর শেষ পথ হিসাবে আত্মহত্যাকে বেছে নাও তাহলে একটু অপেক্ষা করো। নিজের সমস্যা নিজের ভিতরে না রেখে কথা শেয়ার করো। নিচের কথাগুলো একটু খেয়াল করে পড়ো -----------
কেন তুমি আত্মহত্যা করতে চাচ্ছো ?
১. এজীবনের কোন মানে নেই এ কথা মন থেকে দূরে সরাও।
২. তোমার পরিবার পরিজন তাতে কতটা কষ্ট পাবে ভেবে দেখ?
৩. পারিবারিক ডাক্তার থাকলে তাকে জানাও।
৪. কোন নেশা করো না, যাতে এই পরিস্থিতি আরো খারাপ না হয়।
৫. যাকে বিশ্বাস করো, শ্রদ্ধা করো এমন কারো সাথে কথা বলো।
৬. এই +৮৮ ০১৭৭ ১৫২ ৮০৮৬ নাম্বারটিতে কল করো। এরা জুয়া আসক্তির চিকিৎসা করে।
৭. যে করেই হোক জীবন অমূল্য সম্পদ তা বোঝার চেষ্টা করো।
পরিশেষে এটুকুই বলতে পারি যে, জুয়া আমাদের স্বাভাবিক জীবনের অভিশাপ। তাই এর থেকে যতটা দূরে থাকা যায় তাই ভালো। ঠাট্টার ছলেও এর চেষ্টা করবেন না। ফলাফল ভয়াবহ হতে সময় নেবে না। তাই নিজে সচেতন থাকুন, অপরকে সচেতন রাখুন।
তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট

Comments
Post a Comment