দেশের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উচ্চ শিক্ষিত ছাত্রদের এবং বাইরে পিএইচডি করতে যাওয়া ছাত্রদের দেশে অন্তত ১০টি বছর বাধ্যতামূলকভাবে শ্রম দেওয়া ও বিদেশে অভিবাসন বন্ধ করা উচিত নয় কি?
আমি নিজের ব্যক্তিগত মতামত থেকে বলছি,
দেশসেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পড়াশোনা কিরকম হয় তা দেশের যেকোন অনার্স লেভেলের ছাত্র অনুমান করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা ছাত্রদের পড়ানোর জন্য সেরা শিক্ষকদেরই তো প্রয়োজন। আর সেরা শিক্ষক কি আজীবনই বিদেশ থেকে আমদানী করতে হবে নাকি দেশের সেরা ছাত্রদেরই উচিত পিএইচডি এর পর নিজের দেশের ছাত্রদের সেটা শেখানো। আমি জানি বর্তমানে বিদেশী শিক্ষক আমদানী কমই করা হয়। যারা বিশ্ববিদ্যালেয়ে পড়ান তাদের শিক্ষকতার যোগ্যতা অনেক। আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চাওয়া স্টুডেন্টের জন্য যে ভর্তি প্রতিযোগিতা হয় তেমনি বা তার ২৫% প্রতিযোগিতা যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় ঢুকতে চাওয়া পিএইচডিধারীদের ভিতরে থাকতো তাহলে পড়াশোনার মান কতটা উন্নত হত ভেবে দেখেছেন?
দেশের একজন অশিক্ষিত লোক ও জানে যে বিদেশে যায় তার পরিবার যদি দেশে থাকে তাহলে সে তার বেতনের অনেকটাই দেশে পাঠায় রেমিটেন্স আকারে। তো আমি দেশের জন্য টাকা পাঠালাম, আমার ছেলে বড় হয়ে ভাল কলেজে লেখা পড়া করে বিদেশ চলে গেল আর পাশের বাড়ির একটা ছেলে তাই দেখে জমি বিক্রি করে শ্রমিক হিসাবে বিদেশে গেল আয় করতে। এবার আমার দেশের লাভ টা কি হল? দেশে শুধু টাকা এল। আর দেশের যখন ডাক্তার দরকার, ইন্জিনিয়ার দরকার, তখন সেগুলো বিদেশ থেকে নিয়ে এলাম। এতে সত্যিই আমরা লাভবান হলাম? টাকা দিয়ে দেশ চলে না। এভাবে দেশের কোন শক্ত ভিতই গড়ে ওঠা সম্ভব না। আর একটা কথা, অসুস্থ হলে অমুক দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা ভাল সেখানে যাই, দেশে কোন ভাল ডাক্তার নেই, অমুক দেশে রাস্তা বানানোর খরচ বাংলাদেশের অর্ধেক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম র্যাঙ্কিংয়ে নেই, ঘুষ দিয়ে র্যাঙ্কিংয়ে নাম তুলতে হয় বলতে দ্বিধাবোধ করি না। করোনা পরিস্থিতি আমাদের তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।
এবার সরকারের প্রসঙ্গে আসি। আমরা পড়াশোনা করতে খরচ বলতে বাবা- মা আর নিজের টিউশনি করে যে টাকা টা রোজগার করি তার ব্যয়কে বুঝি। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা এক একটা মাস্টার্স ডিগ্রিধারী ব্যক্তি তৈরিতে সরকারী কোষাগারের খরচটা নিতান্তই কম নয়। সে হিসাবটা কোন ছাত্র তার ছাত্র জীবনে করেছে বলে মনে হয় না।
”দেশ ছাড়লে বলে তুই দেশ ছেড়ে.....................দেশে ফেরত আসছস।” দ্বিমুখী সাপের অভাব দেশে কমতি নাই। একজন ডাক্তার যখন ঢাকা থেকে পাশ করে গ্রামে গিয়ে চেম্বার খুলে বসে, তার ভিজিটের ব্যাপারে কথা শোনা যায় যে সে বেশি নেয়, কিন্তু আজ পযর্ন্ত শুনি নাই যে সে কেন গ্রামে ফিরে আসলো তা নিয়ে কথা বলতে। আর দেশে ফেরত আসা নিয়ে কথা বন্ধুবান্ধর আর আত্মীয়-স্বজনরাই বলে থাকে। বাদ বাকি মানুষের কাছে আপনি দেবতা রূপেই পূজিত হন।
তাই নিজের দেশের শিক্ষার্থীদের নিজেদের কাজে লাগিয়ে দেশের শক্ত ভিত গড়ে তোলার জন্য অন্তত দেশের ১০টি বছর শ্রম দেওয়া একান্ত জরুরী।
(আর নিজের কথা বলতে আমি বিদেশে ঘুরতে ভালবাসি, কিন্তু থাকার জন্য খুলনার মত স্থান কোথাও আছে কিনা সন্দেহ।)
Comments
Post a Comment