স্বল্প শিক্ষিত বউ বনাম অধিক শিক্ষিত বউ ১
বেশকিছু দিন আগে এক বন্ধুর সাথে কথা বলছিলাম। বন্ধুটি বিয়ে করেছে বছর তিনেক। মেয়েটি এসএসসি পাস। ইন্টার দেওয়ার আগেই বিয়ে হয়েছে। বন্ধুটিকে বললাম, 'দোস্ত তোর বউকে পড়াবি না?' কলেজে ভর্তি করে দে। তখন দেখি বন্ধুটির চোখ মুখ অন্যরকম হয়ে গেল। বলল, 'না। পড়াবো না।' কেন জানতে চাইলে উত্তর দিল, বেশি পড়াশুনা করে কি হবে? দুইদিন কলেজে যাবে, ছেলেদের সাথে মিশবে। ফোনে কথা বলবে। তারপর সময় পার হলে পাখি উড়াল দেবে। তখন? মধ্যবিত্ত আমরা। একটা চলে গেলে অন্য একটা বিয়ে করতে গেলে লোকেও নানান কথা বলবে। এরকম অনেক দেখেছি। পড়াশুনা করাবো আমি, খাওয়াবো আমি আর সময় গেলে আরেক জনের সাথে?' আমি মনে মনে বললাম 'তোর বোনকে তো পড়াচ্ছিস। ইন্টার পাস করেছে। ভার্সিটি এক্সাম দেবে। অথচ বউয়ের ক্ষেত্রে তা উল্টো। ভাবলাম মানুষ তো কত রকমের হয়। থাক বাদ দেই। কিন্তু ব্যাপারটা মনে গেথে গেল।
কিছুদিন পর এক ক্লোজ বন্ধুর সাথে কথা বলছিলাম। এ কথা সেকথার প্রেক্ষিতে হঠাৎ বিয়ের কথা উঠলো। সে বলল, ' আমি বিয়ে করবো অল্প বয়সী মেয়ে। তাতে মেয়ে আমার কথা শুনবে। আমি বললাম, কেন? বেশি বয়স হলে কি কথা শুনবে না? এবার বন্ধুটি বলল, সবাই কি তোমার গার্লফ্রেন্ডের মত? বয়স বেশি হলে কথা শুনবে না। মুখে মুখে তর্ক করবে। আর শিক্ষিত হলে তো কথাই নেই। ' আমি বললাম, 'বাহ্, তুমি যা ইচ্ছা তাই করবা, আর বউ কিছু বলতে পারবে না? তখন বউয়ের দোষ? আর বেশি বয়স- কম বয়স কি? যে থাকার থাকবে, ভালবাসলে কেউ ছেড়ে যাবে না। শিক্ষিত হলে আরো সুবিধা, অনেকে অশিক্ষিত বলে স্বাভাবিক অনেক ব্যাপার কঠিন করে ফেলে। শিক্ষিত হলে একবারেই বুঝবে।' বন্ধু বলল, ' দোস্ত তোমার কথা মত দুনিয়া চলে না।ওভাবে সব হয় না। কত দেখলাম।' আমি আর কথা বাড়ালাম না।
আর এক ক্লোজ বন্ধুর কথা বলি। সে নিজে ইন্টার পাস করেছে। একটি মেয়েকে পালিয়ে বিয়ে করেছে। মেয়েটি সবে নাইনে পড়ে শুনেছিলাম। একদিন হঠাৎ তাকে বললাম ' দোস্ত বাড়ির গায়ে স্কুল। ভর্তি করে দে। পড়ুক। ঝামেলা তো সব মিটে গেছে। তোর বউ সারা দিন বাড়ি বসে কি করবে? দোস্ত সরাসরি উত্তর দিল, 'আমি পড়াবো না। উচ্ছন্নে যাবে মেয়ে। হাতে থাকবে না।' আমি বললাম, 'বাড়ির পাশে স্কুল। ২মিনিটও লাগে না যেতে। এইটুকু দুরে গেলেই উচ্ছন্নে যাবে?' বন্ধু বলল, 'দোস্ত বিয়ে কর বুঝবি। আমি পড়াবো না। তোর কি?' আমি বললাম, 'ভাল। তবে আমার বউ (গার্লফ্রেন্ডের কথা বলছিলাম।) কি পড়ছে না? কয়েকদিন পর বিয়ে করলে আমি কি ওর পড়ালেখা বন্ধ করে দেব? ও তো পড়তেই চায় না। আমি তো জোর করে পড়াই। খালি বলে এখন বিয়েটা হয়ে গেলে পড়াশুনা থেকে মুক্তি। তবে আমি ছাড়ি না। বিয়ের পরও পড়াবো।' দোস্ত বলল, ও তোমার সাথে পড়ে তাই তুমি পাহারা দিতে পারো। তাই চিন্তা নেই।' আমি বললাম, 'বউয়ের উপর বিশ্বাস নেই?' সে বলল, 'মেয়েদের উপর বিশ্বাস? এই বয়সে আমার হাত ধরে চলে এসেছে। পরে অন্যের হাত ধরে চলে যাবে না তার কি গ্যারান্টি? রিস্ক নেব কেন? ' শুনে বুঝলাম না এটা সুনাম করল না দুর্নাম। যাই হোক আর কথা বাড়ালাম না।
৩-৪দিন আগে এক বড় ভাইয়ের বাসায় গিয়েছিলাম। একটা সমস্যার কারনে সে প্রায় ১০ বছর পড়াশোনা করেনি। তারপর আমাদের সাথে স্কুলে ভর্তি হয়। খুব ভাল লোক। পরিবারের জন্য অনেক কষ্ট করে। এই তো অনার্স লেভেলে এসেও দুটি বছর গ্যাপ দিয়েছে ছোট ভাইয়ের পড়ালেখা করানোর জন্য। আমাদের অনেক ভালবাসে। খুব বিনয়ী ও ভদ্র ব্যক্তিত্ব। যাই হোক ৫বছর আগে ভাই বিয়ে করেছে। মেয়ে ইন্টার পড়ত। যখন তাদের বাড়িতে গেলাম তার বউ বাড়ি ছিল না। তার বউকে নিয়ে কথা বলার একপর্যায়ে বলল, দেখে শুনে বিয়ে করেছি। বউ বেশি পড়াশনা করলে বাধ্য থাকবে না। তাই আর পড়াই নি। বিয়ের আগেই এসব বলে আনা।'
যাইহোক কয়েকটি উদাহরন দিলাম। সবার কথা কিন্তু ছিল এক। বউ বেশি পড়লে ছেড়ে চলে যাবে? কিসের ভয় এদের? সমাজে এরকম চলে আসছে তাই সবারই এরকম হয়ে গেছে। এরকম আরো অনেক আছে। আমি দেখেছি। এথেকে কিভাবে বের হবো আমরা? এদের ধারনা কি আদৌ কি চেন্জ হবে? এদের থেকে তো আরো অনেকে প্রভাবিত হবে? তবে এদের কেই বা কি করে দোষ দিবো? পত্রিকার পাতা খুললে এদের ভয় পাওয়ার কারন অনুযায়ী প্রতিদিন কোন না কোন খবর পাওয়া যায়। আমরা কোথায় ভুল করছি? এদের মেয়ে হলে আমি নিশ্চিত বলতে পারি তাদের উচ্চ শিক্ষিত করতে জান লাগিয়ে দেবে। কিন্তু বউয়ের বেলায় এমন কেন?
এখানে ভয়টা দাড়ায় তখনই যখনই তারা ভাবে যে বউ শিক্ষিত হলে তখন তারা তাদের পছন্দ অনুযায়ী চলবে। তমনি ভাবে নিজের সাথে ম্যাচিং করে নতুন পাত্র দেখবে। তখন আর অর্ধশিক্ষিত বরকে ভাল লাগবে না। বাইরে কাজ করতে চাইবে এবং নিজের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট থাকবে। আর স্বামী যখন তাকে বাইরে যাবার অনুমতি দিবে না বা সকল অধিকার সমান ভাবে ভাগ করবে না তখনই কলহ সৃষ্টি হবে। যা অনেক সময় বিচ্ছেদের রূপ নেয়। কেন এত ঝামেলায় যাবে তারা? দিব্যি আয় করবে, বাজার করবে, খাবে, সপ্তাহে একদিন মন চাইলে বাইরে নিয়ে বের হবে, বউ মুখের উপর কথা বলবে না। বাধ্য থাকবে আর কি চাই?
আমাদের সমাজে স্বামী উচ্চ শিক্ষিত আর বউ অশিক্ষিত বা অর্ধশিক্ষিত হলে ক্ষতি নেই, কিন্তু স্বামীর তুলনায় স্ত্রী শিক্ষিত হলে তখন তার প্রভাব অভাবনীয়। মূলত আমাদের দেশে বং বাধ্য হবে কিন্তু স্বামী বাধ্য হবে এমন কথা টা শুনলে সবার আগে একটা কথা মাথায় আসে, 'নিশ্চয় বউয়ের আচল ধরে বসে থাকে। ' আদৌ কি এর মানে কি তাই?
good
ReplyDeletegood
ReplyDelete